Skip to content
September 30, 2026
দেওয়ানগঞ্জ

বাহাদুরাবাদ ইউপি নির্বাচন: পুরনোদের সঙ্গে আলোচনায় নতুন মুখ, সরব নির্বাচনী মাঠ

বাহাদুরাবাদ ইউপি নির্বাচন: পুরনোদের সঙ্গে আলোচনায় নতুন মুখ, সরব নির্বাচনী মাঠ

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: নুর হাকিম সিদ্দিকী হাসান

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। চায়ের আড্ডা, হাট-বাজার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে চলছে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা, সমীকরণ ও ভোটের হিসাব-নিকাশ।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। এরপর ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বর এবং ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে ভোট আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর নির্বাচনী পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতাও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খেলাধুলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে অংশ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

আলোচনায় যাঁদের নাম

ছইম উদ্দিন: সাবেক চেয়ারম্যান ও বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতার দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

শাজাহান মিয়া: বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে এবারও তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

আ.ন.ম মুছা আলম: বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি। দলের দুঃসময়ে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামও আলোচনায় রয়েছে।

জহুরুল ইসলাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, জামায়াতের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পদে তাঁর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

ছামু মিয়া: এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ওই নির্বাচনে পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ায় এবারও তাঁর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান: তরুণ ও উদ্যমী মুখ হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর সক্রিয়তা রয়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে।

গোলাম মোস্তফা: বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই নেতার নামও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।

হুমায়ুন কবির: বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামও আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম স্থানীয়ভাবে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে আগ্রহী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবে কার প্রতি সমর্থন দেওয়া হয়, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণও এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার সিদ্ধান্ত থাকলেও বিএনপি প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সমর্থিত প্রার্থী রাখার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। ফলে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার প্রতি দলীয় সমর্থন যায়, সেটি নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের অবস্থানও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে পুরনো প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুন মুখের উপস্থিতিতে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠ ধীরে ধীরে সরব হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডও স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলের ওপর। তফসিল ঘোষণার পরই বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.