তথ্য যাচাই ছাড়া অভিযোগ প্রকাশ না করার আহ্বান সুশীল সমাজের
শামছুল হুদা(রতন):
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেওয়ানগঞ্জের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এ বিষয়ে “দেওয়ানগঞ্জ প্রতিদিন”-এর এডমিনের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে তারা বলেন, ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেনকে নিয়ে প্রকাশিত পোস্টটি তাদের দৃষ্টিতে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। কোনো ব্যক্তি, বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ বা তথ্য প্রকাশের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, সম্প্রতি ফারুক মিয়া নামের এক ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেনকে ঘিরে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে ওই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে পোস্টটি কেন মুছে ফেলা হয়েছে, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত।
তাদের মতে, প্রমাণহীন অভিযোগ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা কাম্য নয়। তাই “দেওয়ানগঞ্জ প্রতিদিন”-এর এডমিনকে প্রকাশিত পোস্টটির তথ্য পুনরায় যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রকাশিত পোস্টের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলে তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই স্বাধীনতার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা ও ব্যক্তির সম্মান ও সামাজিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাও জরুরি।
তারা আরও বলেন, “আমরা কারও পক্ষ নিয়ে নয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলছি। কোনো অভিযোগ সত্য হলে তার প্রমাণ প্রকাশ করা হোক। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তা প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা হোক।”


